এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আমি কখনও আমার নৈতিকতাকে বিসর্জন দেব না!

মা আমাকে প্রায়ই বলে, "মসজিদে যা, নামাজ পড়! "
কিন্তু আমি বরাবরের মতই বলি আমি যাব না, নামাযও পড়বো না। সে মানুষটি নামায রোজা বানিয়েছে সেই মানুষটির চরিত্র কতটা জঘন্য সেটা জানার পরেও নামাযে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি কখনই মসজিদে যাব না।
 মা বলে- বাবা মসজিদে না গেছে সবাই খারাপ বলবে।
আমি প্রতিবাদ করে বলি, কিন্তু তাই বলে আমাকে একজন জঘন্য লোকের অনুসারি হয়ে তার খারাপ কাজ গুলো করতে হবে? মানুষ যাই বলুক আমি কখনও আমার নৈতিকতাকে বিসর্জন দেব না!

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০০৯

কথোপোকথন : নাস্তিক আর আস্তিকের মধ্যে চলমান রেষারেষি

"সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য সব সময়ই ছিল এবং সবসময়ই থাকবে। ঠিক তেমনি নাস্তিক আর আস্তিকের মধ্যে চলমান রেষারেষি চিরকাল ধরেই চলতে থাকবে।" বললেন আমার এক পরিচিত বড় ভাই।
"আপনি পুরোপুরি মিথ্যা বলেননি! ব্যবধান সব সময়ই থাকবে কথাটা সত্য। কিন্তু তাই বলে তাদের মধ্যকার সত্য মিথ্যার রেষারেষি যে চিরকালই থাকবে সেটি সত্য নয়। যেদিন ধর্মগুলো সমুলে উৎপাটন করে দেওয়া হবে তারপর থেকে দেখবেন নাস্তিক আস্তিকের কোন দন্দ নেই। সবাই নাস্তিক হয়ে একে অন্যের ভাই ভাই হয়ে গেছে।" আমি তাকে প্রতিউত্তরে জানিয়ে দিলাম।
সে চোখ বাঁকা করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিন্তু কোন কথা বললো না।

সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০০৮

সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাস করেও কেউ ভালো হতে পারে। বরং ধার্মিকরাই অপরাধ করে চলে প্রতিনিয়ত।

তোমাকে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করা উচিত! বললেন আমার খুব কাছের একজন মানুষ। সে আরো বললো- সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস না করলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না। কারণ ভালো  মন্দ ব্যাপারটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার দিয়েছেন। তাই যদি সৃষ্টিকর্তাকে কেউ অবিশ্বাস করে তবে সে আর ভালো মানুষ থাকতে পারবে না।
তোমাকে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করা উচিত! বললেন আমার খুব কাছের একজন মানুষ। সে আরো বললো- সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস না করলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না। কারণ ভালো  মন্দ ব্যাপারটা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার দিয়েছেন। তাই যদি সৃষ্টিকর্তাকে কেউ অবিশ্বাস করে তবে সে আর ভালো মানুষ থাকতে পারবে না।
আমি উত্তরে বললাম - সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করলেই কেউ খারাপ হয়ে যায় না। ভালো খারাপ মানুষের ব্যক্তিগত আচরণ থেকে তৈরী হয়। সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস না করেও কেউ ভালো মানুষ হতে পারে যদি সে খারাপ কাজ না করে এবং সব সময়ই ভালো কাজ করে। ভালো কাজ করতে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করতে হয় না। যার কোন অস্তিত্ব নেই, তাকে বিশ্বাস করে অর্থহীন কিছু কাজ করলেই কেউ ভালো মানুষ হয়ে যায় না যদি সে প্রতিনিয়ত খারাপ কাজ করে চলে। ঘুষ খেয়েও অনেক মানুষ নামাজ পড়ে। একজন ধার্মিক মানুষও কাউকে খুন করলে সে খারাপ মানুষ হয়ে যায়। তাই ভালো খারাপের সাথে সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই।
আমি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি না; আবার আমি কোন খারাপ কাজও করি না। যেহেতু সৃষ্টিকর্তার কোনই অস্তিত্ব নেই এবং আমি ভালো কাজ করি তাই আমি একজন ভালো মানুষ। এর সাথে সৃষ্টিকর্তার কোনই সম্পর্ক নেই। আছে আমার নৈতিকতা বোধ বা ভালো মানুষিকতার সম্পর্ক। বরং সৃষ্টিকর্তার মতো একটি মিথ্যা ধারণাকে সত্য বলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা এবং তাকে সত্য বলে প্রচার করাটা একটি অন্যায় কাজ। কারণ তাতে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আর মিথ্যা কথা বলা সব সময়ই খারাপ কাজ। আর যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে যারা মিথ্যা ছড়াচ্ছে তারা ভালো কাজ করলেও তাদের মিথ্যাবাদিতার জন্য সব সময়ই খারাপ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করে। তাই সব ধার্মিকরাই কম করে হলেও খারাপ। কারণ তারা জেনে বা না জেনে মিথ্যা প্রচার করে। অপর দিকে সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী অন্তত এই মিথ্যাবাদীতা থেকে দুরে থাকে।

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০০৭

আমি অজ্ঞেয়বাদী তাই আমি নামাজ পড়ার মতো অর্থহীন কাজ করতে চাই না।

আমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি না। যেহেতু আমি মুসলমান পরিবারে জন্ম নিয়েছি তাই জন্ম সূত্রে আমি মুসলমান ছিলাম। আমি আল্লাহকেই সৃষ্টিকর্তা বলে বিশ্বাস করাতাম। কিন্তু সময় যতই যেতে থাকলো একটা পর্যায়ে আমি বুঝতে পারলাম আসলে জন্ম সূত্রে পাওয়া আমার ধর্মটি সত্য নয়। আমি ক্রমেই জানলাম আসলে পৃথিবীর কোন ধর্মই সত্য নয়। তাদের সৃষ্টিকর্তাগুলোও আসলে সত্য নয়। সবাই তাদের কল্পনা দিয়ে তাদের নিজেদের মতো করে সৃষ্টিকর্তাগুলোকে বানিয়েছে। হয়তো বিশ্বজগতের একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছে তবে সেটি পৃথিবীর প্রচলিত কোন সৃষ্টিকর্তা নয়। সৃষ্টিকর্তা বলে কোন একজন থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু আমি আসলে জানি না সৃষ্টিকর্তা থাকার সম্ভাবনা কতটুকু। তবে আমি এটা নিশ্চিত যে পৃথিবীতে প্রচলিত যতগুলো সৃষ্টিকর্তা আছে তার কোনটিরই অস্তিত্ব নেই। যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হয় এবং সৃষ্টিকর্তা বলে সত্যিই কেউ থেকে থাকে তবে সেটা পৃথিবীর প্রচলিত সৃষ্টিকর্তাগুলোর মধ্যে কেউ নয়। সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোন সৃষ্টিকর্তা।
তাই আমাকে যতই নামাজ পড়তে বলা হোক না কেন, আমি মন থেকে কখনই নামাজের মতো অর্থহীন কর্মকান্ড করতে চাই না। যদিও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে নামাজের মতো অর্থহীন ফালতু কাজটি করতে বাধ্য হই। আমার বাবা একজন খুবই ধার্মিক মানুষ। যদি সে বুঝতে পারে আমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি না তবে সে খুবই কষ্ট পাবে। আর আমি তাকে কষ্ট দিতে চাইনা। কারণ আমি জানি সে একজন অন্ধবিশ্বাসী এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ। তাই আমি চাইনা সে জানুক আমি ইশ্বর বা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি না। কারণ আমি আমার বাবাকে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করাটা আমার কাছে যতই বাজে ব্যাপার হোক না কেন, আমার কাছে তার চেয়েও ভালোবাসা অনুভূতিটা তার থেকেও হাজার গুনে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই সৃষ্টিকর্তার মতো কুসংস্কারকে বিশ্বাস করার পরেও আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিতে চাই না। কারণ আমি মানুষ এবং মানবতা বা মণুষ্যত্ব ব্যাপারগুলো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০০৬

ধর্ম নিয়ে মাতামাতি বা এর পিছনে সময় অপচয় করার কোন মানেই হয় না। ধর্ম থেকে দুরে থাকাই মানুষের উচিত কর্তব্য।

পৃথিবীর কোন সৃষ্টিকর্তা নেই এটা আজ প্রমাণিত সত্য। তাই ধর্ম নিয়ে মাতামাতি বা এর পিছনে সময় অপচয় করার কোন মানেই হয় না। ধর্ম থেকে দুরে থাকাই মানুষের উচিত কর্তব্য। প্রার্থনা কোন কাজে আসে না সৃষ্টিকর্তা নেই তাই। আর তাই প্রার্থনার পেছনে মানুষের সময় অপচয় করাটা চরম বোঁকামী। বরং মানুষ যেন প্রার্থনায় সময় না অপচয় করে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় ব্যয় করে। অথবা তার জীবনে আনন্দময় কিছু করে যেমন বই পড়া বা কোথাও বেড়াতে যাওয়া। প্রাচীণ মানুষের লেখা কিছু বই পড়ে এবং সেই অনুযায়ী কিছু অর্থহীন আচার অনুষ্ঠান করে নিজেকে শ্রেষ্ট ভাবার মতো বোঁকামী পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। তাই সবার উচিত ধর্মের পেছনে সময় অপচয় না করে সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে মানব কল্যাণমুলক কাজ করা। ধর্ম থেকে দুরে থাকাটা বুদ্ধিমান মানুষের অবশ্য কর্তব্য।

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০০৫

পৃথিবীর কোন সৃষ্টিকর্তাই সত্য নয়!

পৃথিবীতে প্রচলিত ধর্মের অনুসারী ধার্মীকদের করা প্রতিটি দাবীই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে বিশ্বজগত কোন সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ সৃষ্টি প্রক্রিয়ার যে মিথ্যা গাল গল্পগুলো মানুষ বানিয়েছিল ধর্মের নামে তথা ইশ্বরের নামে সে সবগুলোই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। আজ আমরা জানি মানুষ হিন্দুদের মনু বা খ্রিস্টান, ইহুদী অথবা ইসলাম ধর্মের আদম হাওয়ার মাধ্যমেও জন্ম নেয়নি। কোন সৃষ্টিকর্তা মানুষকে মাটি বা বাতাস দিয়ে বানিয়ে তার মধ্যে আত্বা নামক মিথ্যা কিছু দিয়ে তাকে জীবন্ত করেনি। বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে বিশ্বজগত এবং মানুষের উত্তপত্তি কিভাবে সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বজগত তৈরী হওয়ার প্রক্রিয়ায় যে বিগ ব্যাং হয়েছিল তাকে সৃষ্টিকর্তার কোনই দরকার পড়েনি। মানুষ বিবর্তনরের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ সৃষ্টি হয়েছে জড় পদার্থ থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে চলার ফলে। জড় থেকে জীব এবং সরল জীব থেকে জঠিল জীবের সৃষ্টি হয়েছে। আর এভাবেই বিবর্তনের মাধ্যমে নানা প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছে। এক সময় মানুষের বিবর্তন ঘটেছে পূর্বতন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী থেকে। তাই বিজ্ঞান প্রমান করে দিয়েছে পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে সবগুলোই মিথ্যা তথ্য দিয়ে এসেছে সেই প্রাচীণকাল থেকে। কিন্তু এখন মানুষ সত্য যেনে গেছে। আর তারা নিশ্চত হচ্ছে পৃথিবীর সব ধর্মই মিথ্যা। আমরা সত্য জেনে গেছে। তাই সৃষ্টিকর্তার মতো প্রাচীণ মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হওয়া কিছু কাল্পনিক বিশ্বাসকে অন্ধভাবে অনুসরণ করার কোনই যুক্তিকতা নেই। পৃথিবীতে তথা বিশ্বজগতের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই এই সত্যটি মেনে নেওয়াই সকল বুদ্ধিমান মানুষের একান্ত দায়িত্ব।
হয়তো বিশ্বজগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। তবে সেটি পৃথিবীর প্রচলিত ধর্মের সৃষ্টিকর্তাগুলো নয় এটা নিশ্চিত।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪

বিশ্বজগতের কোন সৃষ্টিকর্তা নেই। যদি থাকতোই তবে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত পয়গম্বরদের দেওয়া ধারণাগুলো সত্যি হতো! অথচ তাদের কথাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আদম-হাওয়ার গল্প মতে মানুষ পৃথিবীতে আসেনি। বিগ ব্যাং-এর মাধ্যম বিশ্বজগত সৃষ্টিতে কোন সৃষ্টিকর্তারই দরকার পরেনি। পৃথিবীতে কোন প্রমাণই নেই যাতে প্রমাণ করে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বাস্তব। বরং বিজ্ঞানের সব আবিষ্কারগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বিশ্বাজগত কোন সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেনি। কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। কুরআন প্রাচীণ এক আরবের প্রাচীণ মানুষ মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিজের বানানো। সৃষ্টিকর্তা বলে কোন কিছু নেই।